কলার খোসা দিয়ে বাড়িতে তৈরি করুন নানা ধরনের জৈব সার | Banana Peel Fertilizer

রং-বেরঙের ফুল দেখতে কার না ভাল লাগে। আপনি যদি বাগান করতে পছন্দ করেন তবে এই প্রতিবেদনটি আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। আমরা যখনই কলা খাই, কলা খাবার পর সেই খোসা ফেলে দিই। এটি করবেন না কারণ কলার খোসাতেও প্রচুর পুষ্টি রয়েছে যা বাগানের গাছগুলিতে প্রচুর পুষ্টি সরবরাহ করে। কলার খোসা দিয়েই খুব সহজে গাছের সার তৈরি করা যায়। কিন্তু সার হিসেবে গাছে কী ভাবে কলার খোসা ব্যবহার করবেন, কোন সময়ে গাছে প্রয়োগ করবেন প্রভৃতি জানতে পারবেন আজকের প্রতিবেদন থেকে।

আপনি কি জানেন কলার খোসা গাছের পুষ্টির একটি সমৃদ্ধ উৎস: যাতে পটাসিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামের সাথে আপনার গাছের প্রয়োজনীয় অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে। আপনার বাগানে এগুলি ব্যবহার করাতে গাছ যেমন সতেজ থাকবে তেমনি প্রচুর ফুল উৎপাদনে সাহায্য করবে এবং যেহেতু এটি বিনামূল্যে সার, তাই সেগুলিকে ফেলে না দিয়ে আপনার বাগানের গাছগুলিতে প্রয়োগ করুন ৷

কলার খোসা দিয়ে বাড়িতে তৈরি করুন নানা ধরনের জৈব সার

গাছের বৃদ্ধি, কোষগঠন, ফুল, ফল ও সবুজ পাতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিমান পুষ্টি উপাদান, যে সমস্ত পুষ্টিগুন গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফল এবং সজীবতা বজায় রাখে তার মধ্যে অন্যতম নাইট্রোজেন,ফসফরাস ও পটাশিয়াম যা গাছ মাটি থেকে গ্রহন করে এছাড়াও কিছু রাসায়নিক সার ও জৈব সার থেকে পাওয়া যায়। পটাশিয়ামের অভাবে গাছের ফুলের পরিমান কমে যায়, সময় মত ফুল আসে না, গাছের ফল ঝরে যায়, ফলের আকৃতি নষ্ট হয়, নতুন পাতার কিনারাতে হলুদ দাগ দেখা যায় প্রভূতি।

তাই কলার খোসা ফেলে দেওয়ার আগে: কিছু উপায় আমি আপনার সাথে আলোচনা করব যার মাধ্যমে আপনি সহজে বাগানে জন্য একটি উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার প্রস্তুত করতে পারবেন যেটি ১০০% নিরাপদ।

কলার খোসার পুষ্টি:

পটাসিয়াম: উদ্ভিদ স্বাস্থ্যের জন্য পটাসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জল নিয়ন্ত্রণ, এনজাইম সক্রিয়করণ এবং সামগ্রিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ফসফরাস: ফসফরাস মূলের বিকাশ এবং ফুল গঠনে সহায়তা করে, এটি ফুল ফোটার জন্য অপরিহার্য করে তোলে।

ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়াম গাছের কোষপ্রাচীরকে শক্তিশালী করে এবং উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম সালোকসংশ্লেষণের জন্য অত্যাবশ্যক, এটি নিশ্চিত করে যে গাছগুলি তাদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

অন্যান্য ট্রেস উপাদান: কলার খোসায় নাইট্রোজেন এবং সালফারের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও অল্প পরিমাণে থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং সবুজ রাখতে সাহায্য করে।

কলার খোসা সার ব্যবহারের উপকারিতা:

1. মাটির গঠন উন্নত করে

কলার খোসায় পটাসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে যা মাটির গঠন উন্নত করে, উপকারী জীবাণু ক্রিয়াকলাপের প্রচার করে এবং পুষ্টির প্রাপ্যতা উন্নত করে।

2. উদ্ভিদ বৃদ্ধির উন্নতি

উচ্চ পটাসিয়াম উপাদান শক্তিশালী শিকড় বিকাশ, উন্নত ফুল এবং ফল উৎপাদনে সহায়তা করে, যা স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদের দিকে পরিচালিত করে।

3. পরিবেশগত সুবিধা ও নিরাপদ

কলার খোসা গাছে ব্যবহার করাতে বর্জ্য হ্রাস পায় এবং রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে, আরও দীর্ঘস্থায়ী উদ্ভিদের উন্নতি করতে সাহায্য করে।

4. খরচ-কার্যকারিতা

কলার খোসা একটি সহজলভ্য জৈব পণ্য, যা এই সারটিকে উদ্যানপালক এবং কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক পছন্দ করে তোলে।

কলার খোসার তরল সার:

কলার খোসার তরল হল কলার খোসা ভেজানো জল। এটি তৈরি করা নিরাপদ এবং সহজ- প্রথমে কলার খোসা টুকরো করে কেটে নিয়ে একটা জারে বা বোতলের জলে ভিজিয়ে রেখে দিন তিন-চার দিল, এরপর সেই জল আপনার গাছে দিন। ভিজিয়ে রাখা জলে কলার খোসা থেকে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম নির্গত হয় , যা খুবই সস্তা গাছের কোষগঠন ফুল উৎপাদনে সাহায্য করে।

কলার মধ্যে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, এবং এটি এমন একটি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক, গাছের কাণ্ড শক্তিশালী করে এবং খরা প্রতিবোধক ও কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কলার খোসা টুকরো করে কেটে ঠান্ডা জলে রাখবার থেকে কলার খোসা সেদ্ধ করে ব্যানানা ওয়াটার বানালে পটাশিয়াম লেভেল আরও বেড়ে যায়।

কলার খোসার কম্পোস্ট সার:

রান্না ঘরে সবজি কাটার পর যে অবশিষ্ট অংশ পরে থাকে যেমন- আলুর খোসা, পটলের খোসা, প্রভৃতি সবজি এবং ডিমের খোলা এণ্ডলিকে না ফেলে দিয়ে জৈব কম্পোস্ট সার তৈরী করুন । এর মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারেন কলার খোসাও। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে সাহায্য করে।

এগুলিকে একত্রিত করে মাটির নীচে গর্ত করে রেখে দিন। এক মাস পরে গর্ত থেকে বার করে রৌদ্রে শুকিয়ে গাছের মাটিতে মিশিয়ে দিন, খোসা পচে যাওয়ার সাথে সাথে, খোসার সমস্ত মূল্যবান ভিটামিন শিকড়ে পৌঁছে যাবে, যা আপনাকে উদ্ভিদকে পুষ্টি সরবহার করবে।

কলার খোসা গুঁড়ো

প্রথমে কলার খোসা টুকরো করে কেটে নিয়ে হালকা রোদে শুকাতে দিন, সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে, কলার খোসা টুকরো গুলো ছোট আকৃতির এবং রঙ কালো হয়ে যাবে এবার গুঁড়ো করে নিতে পারেন। গাছে কুঁড়ি আসার এক মাস আগে থেকে প্রতি সপ্তাহে একবার করে চা চামচের এক চামচ মাটিতে মিশিয়ে জল দিয়ে দেবেন।

কলার খোসার স্প্রে তৈরি:

কলার খোসার ডাস্ট বা কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করবার থেকে কলার খোসা থেকে তৈরী স্প্রে, কম সময় লাগে এবং দ্রুত কার্যকারী। এটি প্রস্তুত করতে প্রথমে কলার কিছু খোসা টুকরো করে কেটে নিয়ে একটি জল ভর্তি পাত্রে দুই-তিন দিনের জন্য ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। তিন দিন পরে সেই খোসা ভেজানো জল ছাঁকনি দিয়ে ছেকে একটি এক লিটারের স্প্রেয়ার বোতলে ভর্তি করতে হবে। এপসম লবণ বা Magnesium Sulphate চা চামচের হাফ চামচ স্প্রেয়ার বোতলে ঢেলে ভাল করে মেশাতে হবে। এই কলার খোসার স্প্রে আপনারা প্রতি মাসে একবার করে গ্রাছে স্প্রে করবেন।

প্রিয় পাঠক, এই প্রতিবেদনটি পঠন করবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকের সহযোগিতা “ক্রিয়েটিভিটি গার্ডেনিং” সর্বদা কাম্য করে। গাছই আমাদের একমাত্র সম্পদ যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে পারে, বাঁচিয়ে রাখতে পারে। নিঃস্বার্থে গাছ ভালবাসুন, সকলকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করুন।

আপনাদের যদি এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে আমাকে জানাতে পারেন। সেগুলোর সমাধান করাবার আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আপনার মূল্যবান রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করুন, সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, সবাই খুব ভালো থেকো নমস্কার।

আপনার মূল্যবান রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *