বারোমাসি ফুল গাছ: কম যত্নে সারা বছর ফুল দেয় এই ৮টি গাছ

ফুলের গাছ আমাদের জীবনে সৌন্দর্য এবং প্রশান্তি নিয়ে আসে। তবে ব্যস্ত জীবনে গাছের যথাযথ যত্ন নেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। কম যত্নে সারাবছর ফুল দেবে এমন ৮টি গাছের ছবি সহ পরিচর্যা আলোচনা করা হল, যা আপনার বাগানকে সারাবছর সুশোভিত এবং রঙিন রাখতে সাহায্য করবে। আপনার বাগানে এই গাছগুলো লাগিয়ে সহজেই আপনার পরিবেশকে সুন্দর করে তুলুন।

জবা:

জবা গাছ আমাদের সকলের পরিচিত, কারণ এটি খুব কম যত্নেই বছরে বেশিরভাগ সময় ফুল ফোটে। এই গাছটি সরাসরি সূর্যালোকে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিয়মিত জল দিতে হয়, বর্ষার মরসুম ছাড়া। এর উজ্জ্বল লাল, গোলাপী, হলুদ বা সাদা ফুল বাগানকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলে। জবা গাছের পরিচর্যা অন্যান্য গাছের তুলনায় সহজ, তবে গাছ টবে থাকলে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

ভারতের সব ঋতুতে ফুলের গাছের জন্য বেছে নেওয়ার জন্য সেরা পছন্দগুলির মধ্যে একটি পিস লিলি, কারণ তাদের অসাধারণ চমত্কার ফুল। এই গাছটি ছায়ায় ভালভাবে বেড়ে উঠতে সক্ষম, তাই আপনি যদি কম আলোতে অর্থাৎ পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে পিস লিলি আপনার বাগানের জন্য উপযুক্ত।

পিস লিলি:

পিস লিলি উদ্ভিদের রক্ষণাবেক্ষণ খুবই কম, এটির ফুলের সময়কালের আগে একটি ভাল মানের সুষম জৈব সার প্রয়োজন। গাছটি জলের বিষয়েও বিরক্ত নয়, যখনই মাটি শুকিয়ে যায় তখনই জল দিতে হয়।

অ্যাডেনিয়াম:

অ্যাডেনিয়াম মরু গোলাপ বা ডেজার্ট রোজ নামেও পরিচিত, এটি একটি সুন্দর সাকুলেন্ট প্রজাতির উদ্ভিদ। এর ফুলগুলো উৎজ্বল রঙিন এবং আকর্ষণীয় হয়। অ্যাডেনিয়াম গাছের যত্ন নেওয়ার খুব সহজ এটি খরা সহনশীল এবং একই পাত্রে বহু বছর বেঁচে থাকতে সক্ষম। এর অন্য নাম ” মরুভূমির গোলাপ” যা থেকে বোঝা যায় এর জলের চাহিদা কম।

অ্যাডেনিয়াম গাছে বেশি জল দেওয়ার ফলে সমস্যা তৈরী হতে পারে, তাই সর্বোত্তম বিকল্প হল এটি একটি পাত্রে রোপণ করা এবং এটিকে পূর্ণ রোদে রাখা। প্রাণবন্ত সুন্দর ফুলের সাথে একটি “মরুভূমির গোলাপ” গাছ ভারতের জলবায়ুতে সারা বছর ফুল ফোটে ।

রঙ্গন:

রঙ্গন ফুল গাছ বারো মাস শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে সকল বাগান প্রেমিকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ঘন সবুজ পাতার আড়ালে গোলাপী, লাল, হলুদ, কমলা ও সাদা রঙের ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। গ্রাম থেকে শহর প্রায় সকল স্থানেই এই রঙ্গন ফুল (Ixora) গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এটি বারো মাস শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত হলেও বসন্তের শুরু থেকে শরৎ ঋতু প্রযন্ত অধিক ফুল ফোঁটে। অন্যান্য মরসুমে তুলনামূলক ফুল কম ফোটে। প্রায় প্রতি শাখার অগ্রভাগে থোকায় থোকায় প্রচুর ফুল ফোটে।

রঙ্গন একটি কষ্টসহিষ্ণু, গুল্মজাতীয় চিরসবুজ বা উদ্ভিদ। এ গাছের পরিচর্যা অন্যান্য গাছের তুলনায় কম প্রয়োজন। জল এবং সার তুলনামুলক অনেক কম লাগে। যারা ছাদ বাগান করতে ইচ্ছুক, তারা ছাদে দুই একটা রঙ্গন গাছ টবে রাখতে পারেন। এতে ছাদের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পায়। তবে রঙ্গন গাছ টবে করলে নিয়ম মত জল, সার, কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং ডাল ছাঁটাই ও টবের মাটি পরিবর্তনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে।

বোগেনভিলিয়া:

বোগেনভিলিয়া গাছের যত্ন নেওয়া বেশ সহজ। এই গাছ সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া এবং প্রচুর রোদ পছন্দ করে। বোগেনভিলিয়া, বাগান বিলাস বা বুগেনভিলিয়া নামেও পরিচিত : কাগজ ফুলের জন্য দরকার পর্যাপ্ত সূর্যের আলো। দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পায়, তেমন স্থানে গাছগুলি রাখাত হবে। বুগেনভিলিয়া গাছে যত রোদ পাবে তত বেশি ফুল দেবে। বুগেনভিলা গাছে প্রায় সারা বছর গোলাপী, কমলা, লাল, হলুদ, সাদা এবং বেগুনি রঙের ফুল দেখতে পাওয়া যায়।এই উদ্ভিদটিতে নিয়মিত জল দেওয়া প্রয়োজন হয় না এবং এটি ভারতে একটি অত্যাশ্চর্য সমস্ত ঋতু ফুলের উদ্ভিদ। বুগেনভিলিয়ার গাছের জন্য প্রয়োজনীয় আলো, মাটি, জল, সার কেমন হবে সেগুলি বুগেনভিলিয়ার গাছের পরিচর্যা প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে।

নয়নতারা:

নয়নতারা ফুল গাছের পরিচর্যা খুবই সহজ, এই দেশের আবহাওায় এই গাছে সারা বছর ফুল ফোটে। পাঁচ পাপড়ির বিশিষ্ট দেশি নয়নতারা গাছে তিন প্রকার রঙের (গোলাপী, সাদা, হালকা গোলাপী) ফুল ফোটে। নয়নতারা বীরুৎ জাতীয়, ভেষজ ফুল গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Catharanthus roseus। ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশে সর্বত্য নয়নতারা ফুল গাছ দেখতে পাওয়া যায়। নয়নতারা পেরিউইঙ্কল নামেও পরিচিত। নয়নতারা দোঁয়াশ মাটিতে ভাল জন্মায় এবং খুব কম রক্ষণাবেক্ষণ এবং জলের প্রয়োজন হয়।

ল্যান্টানা:

ল্যান্টানা কম পরিচর্যার সহএকটি বহু বর্ষজীবি ও শক্ত উদ্ভিদ যা ডালের অগ্রভাগে ছোট, রঙিন ফুলের গুচ্ছ তৈরি করে এবং ভারতে সব ঋতুতে ফুলগুলি ফোঁটে। লাটানা গোলাপী, বেগুনি, হলুদ এবং কমলা সহ অসংখ্য রঙে আসে। মনে রাখবেন গাছগুলিকে সরাসরি মাটিতে রোপণ করবেন না, কারণ তারা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এগুলিকে পাত্রে প্রতিস্থাপন করুন এবং পূর্ণ রোদে রাখুন।

ধুতরো:

ধুতরো বা ধুতুরা বিষাক্ত হলেও এর ফুলের সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোহর, আর গুণও প্রচুর। তবুও ধুতুরা কথা উঠলেই সব ছাড়িয়ে তার বিষাক্ততার কথাই আসে সবার আগে। ধুতরো একটি বারোমাসি ফুল গাছ, এর জন্য আলাদা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ধুতুরা প্রজাতির গাছগুলি তাদের বৃহৎ, ট্রাম্পেট আকৃতির ফুলের জন্য পরিচিত। ধুতুরার অনেক প্রজাতি আছে, যে ফুলগুলি গোলাপী, সাদা, হলুদ এবং কমলা সহ বিভিন্ন রঙে হয়।

আপনার মূল্যবান রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *